Tuesday, July 12, 2011

পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর আক্রমনের সময় সরকারের নিরাপত্তা বাহিনী রহস্যজনকভাবে নীরব ভুমিকা পালন করে।

এই বছর ফেব্রুয়ারি ও এপ্রিল মাসে দুটি পৃথক আক্রমনে পার্বত্য চট্টগ্রামে সংখালঘু পাহাড়ী আদিবাসী সম্প্রদায়ের শতাধিক বাড়ী, একটি স্কুল এবং দুইটি বৌদ্ধ মন্দির ভষ্মিভূত হ্য়, যাতে ছয় শতাধিক আদিবাসী সংখ্যালঘু পুরুষ, মহিলা এবং শিশু গৃহহীন এবং অনেক মারাত্বকভাবে আহত হন ।



সম্প্রতি আক্রান্ত অঞ্চল সরেজমিনে তদন্তের সময় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সাথে কথা বলে দেখা যায় যে উক্ত আক্রমণে ৬৩৮ পাহাড়ী আদিবাসী সংখ্যালঘু সম্রদায়ের পুরুষ, মহিলা ও শিশু প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তাদের ঘরবাড়ি হারিয়ে অনেক অস্থায়ী আশ্রয় বা খোলা আকাশের নিচে রাত্রি যাপন করছে। 




তথ্যানুসন্ধানদল নিশ্চিত হয়েছে যে উভয় আক্রমনের সময় নিরাপত্তা বাহিনী উপস্থিত থেকে সহিংসতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন না করে রহস্যজনক ভাবে নীরব ভুমিকা পালন করে এবং ধ্বংসলীলা সচেতনভাবে প্রত্যক্ষ করে । বাংলাদেশ সরকার উক্ত ঘটনাদুটি যথাযথভাবে তদন্তপুর্বক উপর্যুক্ত ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে । স্থানীয় কর্তৃপক্ষ উক্ত হামলার  ঘটনা দুটি তদন্তপুর্বক সহিংসতার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত এই হামলার জন্য দায়ী কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারে নি ,




সরকার উক্ত ঘটনার বিষয়ে স্বচ্ছভাবে তদন্ত সম্পন্নপুর্বক প্রতিবেদন প্রকাশ না করে সরকার উক্ত এলাকায় 'জরুরী' আইন জারী করে উক্ত এলাকায় মানবাধিকার কমীদের অঘোষিতভাবে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে । আমাদের দলের তদন্ত চলাকালে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা আছে বলে দৃঢ় সন্দেহ প্রকাশ করেন এবং তথ্যানুসন্ধান দলের সদস্যদের বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশ এবং পুলিশের জেলা বিশেষ শাখা সদস্যদের দ্বারা হয়রানী করা হয় ।




এই আক্রমণদ্বয় পার্বত্য চট্টগ্রামে সংখালঘু পাহাড়ী আদিবাসী সম্প্রদায়ের সদস্যদের মৌলিক মানবাধিকার রক্ষায় সরকারের ব্যর্থতার সুস্পষ্ট উদাহরণ । উপরন্তু, উল্লেখিত আক্রমনের সময় আইন শৃংখলা বাহিনীর উপস্থিতি ও আক্রমণ প্রতিহত করার চেষ্টা না করে  রহস্যজনক ভাবে নীরব থাকার বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্ত না করায় বাংলাদেশ সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামে সংখালঘু পাহাড়ী আদিবাসী সম্প্রদায়ের মৌলিক মানবাধিকার রক্ষা করতে হ্য় অনিচ্ছুক বা রক্ষা করতে অক্ষম বলে প্রতিয়মান হয় । এ জন্য বাংলাদেশ সরকারকে অবশ্য আদিবাসী বিষয়ক আন্তর্জাতিক ফোরামের নিকট কৈফিয়ত দিতে হবে ।    
Post a Comment