Friday, November 4, 2016

সেক্স ট্রাফিকিং: কোটি টাকার অপরাধমূলক ব্যবসায়!

অ্যাডভোকেট শাহানূর ইসলাম সৈকত
ভাবুনত এমন একটি অবস্থার কথা, যেখানে নিজের জীবনের উপর আপনার কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। যেখানে আপনাকে প্রতিনিয়ত অন্যের সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতে হয়। এমনকি আপনাকে দিয়ে যে কাজটি করানো হচ্ছে তা থেকে উপার্জিত আয়ের উপরও আপনার কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। কল্পনা করুন আপনার আশে পাশে কেউ নেই, আপনার বাবা-মা-ভাই-বোন

-বন্ধু-প্রেমিক কেউ না। সেক্স ট্রাফিকারের খপ্পরে যারা পরে তাদেরকে এই অবস্থার কথা কল্পনা করতে হয় না, কারণ বাস্তবে তাদের অবস্থা এমনই করুণ। এরা আধুনিক যুগের কৃতদাস, এরা প্রতারণার শিকার। এদের প্রলোভিত করে অথবা প্ররোচিত করে অথবা জোড় করে পতিতা বানানো হয়। সেক্স ট্রাফিকিং বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশেও মাদকের পর  সবচেয়ে বড় একটি অপরাধমূলক ব্যবসায়! কিভাবে আপনি অথবা আমি এই সেক্স ট্রাফিকিং এর দুষ্ট চক্রের একটি অংশ হয়ে গেছি অথবা অংশ হতে চলেছি তা আমরা হয়ত বুঝতেই পারি না।

আমরা সবাই স্বপ্ন দেখি, স্বপ্ন দেখি উন্নত জীবনের, নিজের জন্য, পরিবারের জন্য। ঢাকা, চট্রগ্রামের মত বড় বড় শহর এই স্বপ্ন পুরনের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। কিন্তু দুঃখের বিষয় আমাদের কারো কারো জন্য এই স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিনত হয়। নিজেদের জীবনমান উন্নত করার আকাংখায় তাদের দূর্বল করে দিয়েছিল। আর তাদের এই দূর্বলতার সুযোগ নেই ঝুমকা ইয়াসমিন খান, রাজিয়েল ইব্রাহিম, মিঃ মাসুম এর মত সেক্স ট্রাফিকার এবং তাদের দালালরা। তাই বলে ঝুমকা, রাজিয়েল আর মাসুম ই  একমাত্র দোষী ব্যক্তি নয়, আপনি বা আপনি চিনেন এরূপ যে কেউ অপরাধী হতে পারে। আমাদের অনেকেরই বন্ধু বা পরিচত রয়েছে যারা অর্থের বিনিময়ে যৌনতা ক্রয় করে, এরা যৌন চাহিদা মেটানোর জন্য যেকোন বয়সের মেয়েদের কাছে যায়।

সেক্স ট্রাফিকিং শুধুমাত্র একটি সামাজিক ক্ষত নয়, এইটা একটা যঘন্য অপরাধ। তাই অন্যান্য যেকোন অপরাধের মত একে সমাজ থেকে নির্মূল করা প্রয়োজন। আমি আজ আপনাদের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছি। কারণ আমরা সবাই কোন না কোনভাবে এই চক্রের সাথে জড়িত। আমরা চাই সস্তা শ্রম, সস্তা পন্য, চাই অর্থের বিনিময়ে যৌনতা, আর এ কারনে সমাজের অনেক নারী ও শিশু হয় সেক্স ট্রাফিকিং এর শিকার, হয় শোষিত।

এ সমস্যা সমাধানের জন্য আমাদের সবার আগে জানতে হবে কেন সেক্স ট্রাফিকিং এর ঘটনা ঘটে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এর শুরু হয় দারিদ্র থেকে। দূর্বল ও অসচ্ছল ব্যক্তি ও পরিবারগুলো মূলত সেক্স ট্রাফিকারদের মূল লক্ষ্য। যেমন ঝুমকা, রাজিয়েল আর মাসুম অনলাইনে বিজ্ঞাপন প্রদান ও পরিচিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে গ্রাম থেকে উচ্চাকাঙ্ক্ষায় আশা মেয়েদের লক্ষ্য করে লোভনীয় অফারের মাধ্যমে সেক্স ট্রাফিকিং এর জাল বিস্তার করে। আর সে জালে সহজেই ধরা দেই ভিক্টিমরা। যদিও আপাতত দৃষ্টিতে মনে হয় তারা স্বেচ্ছায় যৌন ব্যবসা করছে, কিন্তু সত্য হচ্ছে তারা সেক্স ট্রাফিকিং এর শিকার।

তাই আসুন সেক্স ট্রাফিকারদের সহযোগিতা করা থেকে বিরত থাকি এবং যদি কাউকে সেক্স ট্রাফিকিং এ যুক্ত বলে সন্দেহ হয় তবে তাৎক্ষনিক তা পুলিশে অবহিত করি।

============================================================ Advocate Shahanur Islam | An Young, Ascendant, Dedicated Human Rights Defender, Lawyer and Blogger in Bangladesh, Fighting for Ensuring Human Rights, Rule of Law, Good Governance, Peace and Social Justice For the Victim of Torture, Extra Judicial Killing, Force Disappearance, Trafficking in Persons including Ethnic, Religious, Sexual and Social Minority People.
Post a Comment